বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের বানারীপাড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে নিয়ে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিস মৃধার সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্য এবং আওয়ামী লীগকে ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়াকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বরিশাল-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর একটি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আমলের তিনবারের সাবেক পৌর মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা এবং আওয়ামী লীগ নেতা খলিল চোকদার সরাসরি ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
উক্ত ভিডিওটি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করে বিএনপি নেতা আনিস মৃধা লিখেছেন, "স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি এক হয়েছে।" তিনি আরও লেখেন, "রাজাকার আলবদর হায়না বাহিনীর বিরুদ্ধে এবার নির্বাচন। ওদের এই স্বাধীন বাংলার মাটিতে কোনো ঠাঁই হবে না।" এক নির্বাচনী সভায় তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন এবং জামায়াত ইসলামীকে ‘বিপক্ষ শক্তি’ দাবি করে নারীবিদ্বেষী প্রচারণায় লিপ্ত হন।
আনিস মৃধার এই বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বানারীপাড়া পৌর জামায়াতের আমীর কাওসার হোসাইন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "যারা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়, তারাই এখন জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ইসলাম ও নারী সমাজ নিয়ে তাদের মন্তব্য ভিত্তিহীন।" অন্যদিকে, বরিশাল জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাব্বির হোসাইন এই ঘটনাকে শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে দলের হাতে শহীদদের রক্ত, তাদের নিয়ে ধানের শীষের প্রচারণা কেবল সুবিধাবাদ নয়, বরং এটি চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
বর্তমানে সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট: ফেজ-২’ এর মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হলেও বানারীপাড়ার এই দুই বিতর্কিত আওয়ামী নেতা কেন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তাদের পুনর্বাসনে কাজ করছে।
এই দুই নেতার বিষয়ে অপারেশন ডেভিল হান্ট: ফেজ-২’ অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, “আমাদের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছি; আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া মাত্রই তাদের গ্রেফতার করা হবে।”